শুক্রবার, ১৯ Jun ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ উৎপাদনে বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাড়ছে কেন

স্মার্টফোন থেকে কম্পিউটার, গাড়ি, ওয়াশিং মেশিনসহ সব ধরনের যন্ত্রই চিপনির্ভর। কয়েক বছর ধরে চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর খাত নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মধ্যে চিপ উৎপাদনে বৈশ্বিক পর্যায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি বিনিয়োগ বাড়িয়ে যাচ্ছে। যেখানে আগে চিপের জন্য সবাই এশিয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল, হঠাৎ করেই সেখানে বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানির বিনিয়োগ প্রযুক্তিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিবিসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কভিড-১৯ মহামারীর সময় চিপের সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া এশিয়ার বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক বিষয় নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেখানে বিশ্বের ৯০ শতাংশ উন্নত চিপই এখানে তৈরি হয়ে থাকে। ২০২১ সালেও চিপের প্রবল সংকট তৈরি হয়। সে সময় অল্পসংখ্যক সরবরাহকারীর ওপর বৈশ্বিক নির্ভরতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, মূলত এশিয়ার ওপর এ নির্ভরতা কমাতেই বিভিন্ন দেশের সরকার অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে চিপ উৎপাদনে বড় পরিসরে বিনিয়োগ শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউএস চিপস অ্যাক্ট আইন পাস করে। এ আইনে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে কম্পিউটারের চিপ উৎপাদনে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের কথা জানানো হয়। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নও ৪ হাজার ৩০০ কোটি ইউরোর প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যুক্তরাজ্যও চিপ উৎপাদন খাতে ১০০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে। বিশ্লেষকরা জানান, বিভিন্ন দেশের সরকার পর্যায়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করছে।

তাইওয়ানের একটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী কোম্পানি ইউরোপকেন্দ্রিক তিনটি কোম্পানির সঙ্গে ড্রেসডেনে ১ হাজার কোটি ইউরো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপীয় সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেন্ড্রিক আবমা বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি বৈশ্বিক পর্যায়ে ৮০ শতাংশ চিপ এশিয়ায় তৈরি হয়। এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভরতার মানে হচ্ছে আমাদের স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ইউরোপে আমাদের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে সেমিকন্ডাক্টরের ওপর গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি অতীতে অবমূল্যায়িত হয়েছে।’ জার্মানির পাশাপাশি বেলজিয়াম, লিথুনিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রেও বর্তমানে বিনিয়োগ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

ওয়াশিংটনে জর্জটাউনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজির গবেষণা বিশ্লেষক হান্না ডোহমেনের মতে, ইউএস চিপস অ্যাক্ট অনুসারে ৫০০-এর বেশি কোম্পানি তাদের প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য আবেদন করেছে।

গবেষণা বিশ্লেষক হান্না ডোহমেন বলেন, ‘আমরা ভারতকে চিপ তৈরি খাতে প্রবেশ করতে দেখছি। এটি এমন একটি দেশ যার চিপ ডিজাইনের একটি শক্তিশালী ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু তাদের নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ভারত মহাকাশে অন্যতম প্রভাবশালী দেশ হয়ে উঠতে চাইছে। চীনের সঙ্গেও দেশটির তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য সহযোগী দেশ ভারতের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে।’

প্রযুক্তিবিদদের মতে, বিনিয়োগের বিষয়সহ সবকিছু ইতিবাচক মনে হলেও কম্পিউটার চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর তৈরি সহজ নয়। অ্যারিজোনায় উন্নত চিপ তৈরির কারখানা নির্মাণের কথা ভাবলেও সমস্যায় পড়েছে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)। কোম্পানির অভিযোগ দক্ষ কর্মী না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। অন্যদের অভিমত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে দ্রুত সময়ে কারখানা নির্মাণ ও চিপ উৎপাদনের যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে তাতে দুটি সমস্যা হবে। প্রথমত একই পণ্য তৈরি হবে এবং তা বর্জ্যে রূপান্তরিত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com